পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি, সংখ্যালঘু মুসলিম ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলায় ভারতের ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিম ও বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন আইসিপি প্রধান মুরসালিন মীর। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি ভারতের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে কেবল একটি রাজ্যের নির্বাচন হিসেবে না দেখে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের শুরু বলে সতর্ক করেছেন। মীর বলেন পশ্চিমবঙ্গের এই পরিবর্তন সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় চাপ এবং সাম্প্রদায়িক উত্তজনা যে আগামীর দিনগুলোতে আরও বাড়বে সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই পরিস্থিতির বিপরীতে মীর বেশ কিছু কৌশলগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করে বসে থাকা এখনকার সময়ের সমাধান নয় বরং বাংলাদেশকে আরও দূরদর্শী হতে হবে। তিনি মনে করেন প্রথমত বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে স্বতন্ত্র ডেস্ক বা বিশেষ উইং তৈরি করা দরকার যাতে সীমানার ওপারে কোনো অস্থিতিশীলতা শুরু হলে তা আগেই টের পাওয়া যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে শরণার্থী বা পুশব্যাকের মতো ইস্যুগুলো বড় আকার ধারণ করতে পারে তাই বাংলাদেশকে এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের অভ্যন্তরীণ এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো পরিষ্কার করে তুলে ধরতে হবে।
দ্বিতীয় একটি পথ হতে পারে দেশের ভেতরে সামাজিক সংহতি এবং সীমান্ত রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া। মীর মনে করেন যখন প্রতিবেশী দেশে কোনো উগ্র মতাদর্শ জয়ী হয় তখন তার প্রভাব সরাসরি নিজ দেশের জনগণের মনস্তত্ত্বে পড়ে। তাই বাংলাদেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সম্ভাব্য যেকোনো উস্কানি রুখে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ভারতের এই রাজনৈতিক মেরুকরণকে ডিল করার জন্য কেবল আবেগ দিয়ে না চলে বরং কঠোর যুক্তিনির্ভর এবং পেশাদার কূটনৈতিক পথে হাঁটা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই নিরাপত্তা ঝুঁকি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন।