সার্বভৌম উম্মাহ গঠনে ইকবালের দর্শনই মুক্তির পথ: জাতীয় প্রেসক্লাবে ইরানি কালচারাল কাউন্সেলর

জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আয়োজিত আল্লামা ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান
আল্লামা ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকাস্থ ইরানি কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীরমোহাম্মদী বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আল্লামা ইকবালের চিন্তা ও দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং মুসলিম উম্মাহর সংকটে এক অব্যর্থ পথনির্দেশক। জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আয়োজিত ‘সার্বভৌম উম্মাহ: আগ্রাসন মোকাবিলায় আল্লামা ইকবালের ঐক্যের দর্শন’ শীর্ষক সভায় তিনি ইকবালের বহুমুখী প্রতিভা এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুসলমানদের রক্ষার আহ্বান জানান।
মীরমোহাম্মদী তার বক্তব্যে বলেন, আল্লামা ইকবাল ছিলেন একাধারে দার্শনিক, কবি ও রাজনীতিক। পাশ্চাত্য জীবন কাটিয়েও তিনি তাদের সভ্যতাকে যেভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন তা অভাবনীয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, মুসলমানদের মূল সমস্যা হলো তাদের আত্মপরিচয় ভুলে যাওয়া এবং পাশ্চাত্যের অনুকরণ করা। ইকবালের অধিকাংশ সাহিত্য ফার্সি ভাষায় রচিত হওয়ার কারণে তার আবেদন নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বের সকল মুসলমানের মুক্তির মন্ত্র হিসেবে কাজ করে।
কাউন্সেলর উল্লেখ করেন যে, ইকবালের দর্শনের প্রধান ভিত্তি ছিল ইসলামের দিকে আহ্বান এবং মুসলমানদের স্বীয় শক্তি সম্পর্কে সজাগ করা। তিনি সর্বদা পশ্চিমা সভ্যতার বস্তুবাদী ও ধর্মহীন রূপকে ঘৃণা করতেন। ইকবাল তার লেখনীতে পাশ্চাত্যকে ‘হায়েনা’র সাথে তুলনা করেছেন, যারা ভেড়ার চামড়া পরে বিশ্বকে প্রতারিত করছে। বর্তমান বিশ্বেও ধর্মহীনতা, নাস্তিকতা ও সেক্যুলারিজমকে মানবজাতির মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ইকবালের দর্শন আজও সময়োপযোগী।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা টেনে তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলের বর্তমান আগ্রাসন সম্পর্কে ইকবাল প্রায় ১০০ বছর আগেই সতর্ক করে গিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, যে জাতি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, আল্লাহ নিজেই তাদের দায়িত্ব নেন।
ইরানি কালচারাল কাউন্সেলর বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে বাংলাদেশের মানুষ যে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন তা অতুলনীয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যুদ্ধে ইরানের বিজয় হবে মূলত পুরো মুসলিম বিশ্বের তথা বাংলাদেশেরও বিজয়। এছাড়া বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকটের দ্রুত সমাধানের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। পরিশেষে তিনি নতুন প্রজন্মকে ইকবালের দর্শনে শিক্ষিত করার ওপর জোর দেন এবং এই ধরনের আয়োজন করার জন্য আয়োজক খোমেনী ইহসান ও তার দলকে ধন্যবাদ জাজনান।