ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির টার্গেটে, শেষ মুহূর্তে রুখে দিল আইএসআই

ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনিরকে হত্যাচেষ্টা মোসাদের, রুখে দিলো পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই
গত ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এগ্রিমেন্টে পাকিস্তানি মেডিয়েটর হিসেবে অংশগ্রহণ করা প্রাইম মিনিস্টার শাহবাজ শরীফ, সেনাপ্রধান আসীম মুনিরসহ পাকিস্তানি ডেলিগেশনের হাই প্রোফাইলদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইলে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ— বলে দাবি করেছেন বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান জিও-পলিটিক্যাল এনালিস্ট পেপে এস্কোবার। মারিও নওফেলের সাথে এক পড়কাস্টে তিনি একথা বলেন।
পেপে এস্কোবারের ভাষ্যমতে: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই একাধিক মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে ইসরাইল পাকিস্তানি ডেলিগেশনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। মূলত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার লক্ষ্যেই ইসরাইলের এমন পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর দ্রুততম সময়ের মাঝে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের বিষয়ে অবগত করে, একইসাথে ওমানের মিনিস্ট্রি অব ফরেইন অ্যাফেয়ার্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে ইসরাইলকে স্পষ্ট ভাষায় ম্যাসেজ পৌছে দেওয়া হয়: ‘If you touch our delegation, we’re going to wipe you off the map’
পাকিস্তানের এমন শক্ত অবস্থানের ফলে ইসরাইল পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে জানান তিনি।
তবে ব্রাজিলিয়ান ওই এনালিস্ট পেপে এস্কোবারের ভাষ্য ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে এই ঘটনার ভেরিফিকেশন পাওয়া সম্ভব হয়নি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ইস্যু এবং ইতিহাসকে যদি আমরা একটুখানি মিলিয়ে পড়ি তাহলে পেপে এস্কোবারের মন্তব্যকে ফেলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আমরা যদি পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের প্লেন ক্রাশের ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যায় সেখানে মোসাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ওই প্লেন ক্রাশে সেদিন জিয়া, পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাফেল, তার ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হার্বার্ট এম. ওয়াসম এবং পাকিস্তানের অধিকাংশ শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মারা গিয়েছিল।
এত হাই প্রোফাইল মারা যাওয়ার পরও পেন্টাগন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের চাপে এফবিআইকে ২৫০ পেজের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।
তবে ২০০৪ সালের দিকে জানা যায়: ওই বিমানে ফসফরাস, ক্লোরিন, পটাশিয়াম, ভিএক্স গ্যাস, অ্যান্টিমনি এবং পেন্টাএরিথ্রিটল টেট্রানাইট্রেটের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। সেসময় খুব কম দেশের হাতেই ভিএক্স গ্যাস ছিল এবং মোস্ট সিগনিফিকেন্টলি ওই ঘটনার কয়েকদিন আগেই ভারতের একটি রাষ্ট্রয়াত্ত প্রতিষ্ঠানকে ভিএক্স গ্যাস সাপ্লাই দিয়েছিল ইসরাইল।
এছাড়া পাকিস্তানের কাহুটা নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিতে ইসরাইলের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনারা সবাই অবগত।
সুতরাং, আসীম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনার ব্যাপারে স্পেকুলেশন্স থাকলেও ইতিহাস ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এর সম্ভাবনাও যথেষ্ট।
উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার সৌদি আরব যাবেন আসীম মুনির এবং শাহবাজ শরীফ। উদ্দেশ্য- পাওয়ার শিফট এন্ড মিডল ইস্টার্ন নিউ অ্যালাইনমেন্ট।
